পার্থক্য>> কং/নায়েক হতে এ এস আই (নিঃ) পদে পদোন্নতি পরীক্ষার গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য
পার্থক্য সমূহঃ
১// স্বীকৃতি ও স্বীকারোক্তির মধ্যে পার্থক্য>>
স্বীকৃতি
১. স্বীকৃতি হলো মৌখিক বা লিখিত বিবৃতি যা বিচার্য বিষয়ের সূচনা করে থাকে।
২. স্বীকৃতি সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ১৭ থেকে ২৩ ধারা পর্যন্ত আলোচনা করা হয়েছে।
৩.মামলার বাদী,বিবাদী এবং মামলার সাথে জড়িত যে কোনো ব্যক্তি স্বীকৃতি দিতে পারে।
৪. পুলিশের নিকট স্বীকৃতি দিলে আদালতে গ্রহণযোগ্য হতে পারে।
৫. আদালতে স্বীকৃতির সাক্ষ্যগত মূল্যের গ্রহণযোগ্যতা কম।
স্বীকারোক্তি
১.কোন আসামি যখন ম্যাজিস্ট্রেট এর নিকট কোন রকমের ভয়ভীতি,প্রলোভন,প্রতিশ্রুতি ছাড়াই স্ব ইচ্ছায় নিজের দোষ স্বীকার করে তাকেই স্বীকারোক্তি বলে।
২. স্বীকারোক্তি সম্পর্কে সাক্ষ্য আইনের ২৪ হতে ৩০ ধারায় আলোচনা করা হয়েছে।
৩. অপরাধে সঙ্গে অভিযুক্ত ব্যক্তিই নিজের দোষ স্বীকার করে স্বীকারোক্তি দিতে পারে।
৪. পুলিশের নিকট স্বীকারোক্তি দিলে তা আদালতে গ্রহণযোগ্য হবেনা।
৫. আদালতে স্বীকারোক্তির সাক্ষ্যগত মূল্যর গ্রহণযোগ্যতা বেশি।
২// দুশ্চরিত্র রোল এ/ এ রোল এবং দুশ্চরিত্র রোল বি/ বি রোল এর পার্থক্যঃ
এ- রোল
১. থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি দেখেন ,তার থানার কোন আসামি অন্য কোন থানায় প্রবেশ করেছে। তাহলে বিপি ফরম ৫৯ এ ঐ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বরাবরে যে তালিকা প্রেরণ করেন তাকেই এ রোল বলা হয়।
২.দুশ্চরিত্র রোল এ পিআরবি ৩৪৩ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।
৩. নিজের থানার আসামি অন্য থানায় প্রবেশ করলে এ রোল পাঠানো হয়।
৪. দেশের যে কোন থানায় পাঠানো যায়।
৫. এ রোল বিপি ফরম ৫৯, বাংলাদেশ ফরম ৫৩৭৫ এ ইস্যূ করা হয়।
বি - রোল
১.থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা যদি দেখেন অন্য থানার কোন সন্দেহজনক ব্যক্তি তার থানা এলাকায় প্রবেশ করেছে, তাহলে বিপি ফরম নং ৬০ এ ঐ ব্যক্তির নাম ঠিকানা উল্লেখ করে যে তালিকা ঐ ব্যক্তির থানায় প্রেরণ করা হয় তাকেই বি রোল বলা হয়।
২. দুশ্চরিত্র রোল বি পিআরবি ৩৪৪ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।
৩. অন্য থানার আসামি বা সন্দেহজনক ব্যক্তি নিজ থানা এলাকায় প্রবেশ করলে বি রোল পাঠাতে হয়।
৪. আসামির নিজ থানায় পাঠাতে হয়।
৪. বি রোল বিপি ফরম নং ৬০,বাংলাদেশ ফরম নং ৫৩৭৬ এ ইস্যু করা হয়।
৩// হত্যামূলক ফাঁসি ও আত্মহত্যামূলক ফাঁসি।
হত্যামূলক ফাঁসিঃ
১. যদি কোন ব্যক্তি অপর কোন ব্যক্তিকে খুন করার পর তার অপরাধকে গোপন করার জন্য মৃত ব্যক্তিকে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে রাখে তাকেই হত্যামূলক ফাঁসি বলা হয়।
২.হত্যামূলক ফাঁসি দন্ডবিধির ৩০০ ধারায় উল্লেখ আছে।
৩.এই অপরাধের শাস্তি ৩০২,১০৯,৩৪ ধারায় উল্লেখ আছে।
৪. হত্যামূলক ফাঁসিতে মৃতের শরিরে একাধিক আঘাতের চিহ্ন থাকতে পারে।
৫. হত্যামূলক ফাঁসিতে গলায় একাধিক দাগ হতে পারে।
৬. নাক ও মুখে রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায়।
আত্মহত্যামূলক ফাঁসিঃ
১.যদি কোন ব্যক্তি হতাশাগ্রস্থ হয়ে স্বেচ্ছায় গলায় রশি দিয়ে আত্মহত্যা করে তাকেই আত্মহত্যামূলক ফাঁসি বলা হয়।
২. আত্মহত্যামূলক ফাঁসি ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ১৭৪ ধারা পিআরবি ২৯৯ বিধিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩. এই অপরাধের শাস্তি দঃ বিঃ ৩০৯ ধারায় উল্লেখ আছে
৪. আত্মহত্যামূলক ফাঁসিতে শরিরে আঘাতের কোন চিহ্ন থাকেনা।
৫. আত্মহত্যামূলক ফাঁসিতে গলায় শুধু অর্ধ চন্দ্রাকার দাগ থাকে।
৬. শুধু মুখদিয়ে লালা পড়ার চিহ্ন পাওয়া যায়।
৪// হৈ চৈ বিজ্ঞাপন ও তদন্তস্লীপ/ অনুসন্ধান স্লীপের পার্থক্য।
হৈচৈ বিজ্ঞাপনঃ
১.কোন পলাতক বা ফেরার আসামিকে গ্রেফতারের জন্য বা চুরি অথবা ডাকাতি হয়ে যাওয়া মালামাল উদ্ধারের জন্য পাশ্ববর্তী থানা বা জেলায় বিপি ফরম নং ২৮ মোতাবেক যে বিজ্ঞপ্তি পাঠানো হয় তাকেই হৈ চৈ বিজ্ঞাপন বলা হয়।
২. হৈ চৈ বিজ্ঞাপন পিআরবির ৩৫০ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।
৩. হৈ চৈ বিজ্ঞপ্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ইস্যু করে থাকেন।
৪. হৈচৈ বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর রিসিভ রেজিস্টার ও জিডিতে লাল কালি দিয়ে লিখতে হয়।
৫. এই বিজ্ঞপ্তি পাওয়ার পর থানার সকল অফিসারদের,ও চৌকিদার দফাদারদের অবগত করতে হয়।
তদন্তস্লীপ/ অনুসন্ধান স্লীপঃ
১.অন্য কোন থানায় অবস্থানরত কোন আসামি বা সন্দেহজনক কোন ব্যক্তির তথ্য জানার জন্য বিপি ফরম নং ৭৬,৭৭ মোতাবেক ঐ থানা বরাবরে যে স্লীপ ইস্যু করা হয় তাকেই তদন্ত বা অনুসন্ধান স্লীপ বলা হয়।
২.তদন্ত স্লীপ পিআরবি ৩৭৯ বিধিতে আলোচনা করা হয়েছে।
৩.তদন্তস্লীপ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ছাড়াও মামলার তদন্তকারী অফিসার ইস্যু করতে পারেন।
৪.তদন্তস্লীপ পাওয়ার পর রিসিভ রেজিস্টারে ও জিডিতে কালো কালিতে লিখতে হয়।
৫. তদন্তস্লীপ পাওয়ার পর একজন অফিসার নিয়োগ করতে হয় তদন্ত করার জন্য
৫// সমন ও ওয়ারেন্ট এর মধ্যে পার্থক্য ।
সমনঃ
১. কোন ব্যক্তিকে নির্দিষ্ট সময় ও তারিখে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য আদালত স্বাক্ষর ও সীলমোহরযুক্ত যে দুই কপি আদেশনামা ইস্যু করা হয়, তাকেই সমন বলে।
২.ফৌঃ কাঃ ৬৮ ধারায় ও পিআরবি ৪৭১ বিধিতে সমন উল্লেখ আছে।
৩. সাক্ষীকে আদালতে হাজির হওয়ার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ সময় উল্লেখ করা হয়।
৪. সমন দুই কপিতে প্রস্তুত হয়।
৫. সমন জারিতে বাধা দিলে দঃ বিঃ ১৭৩ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা আছে।
৬. সমনে প্রাপ্তি স্বীকার করতে হয়।
ওয়ারেন্টঃ
১.কোন ব্যক্তিকে আদালতে হাজির করার জন্য আদালত কর্তৃক বা ম্যাজিস্ট্রেট কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সীলমোহরযুক্ত আদেশ নামাকেই ওয়ারেন্ট বলে।
২. ফৌঃ কাঃ ৭৫ ধারা ও পিআরবি ৪৬৮,৩১৫ বিধিতে উল্লেখ করা আছে।
৩.আদালতে হাজির করার জন্য নির্দিষ্ট দিন ও তারিখ ওয়ারেন্টে উল্লেখ থাকেনা।
৪. ওয়ারেন্ট এক কপিতে প্রস্তুত করতে হয়।
৫.ওয়ারেন্ট তামিলে বাধা দিলে দঃ বিঃ ২২৪ ধারায় আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হয়।
৬.ওয়ারেন্ট এ প্রাপ্তি স্বীকার করতে হয়না।
৬// আমলযোগ্য অপরাধ ও আমলের অযোগ্য অপরাধের পার্থক্য।
আমলযোগ্য অপরাধঃ
১. ফৌজদারি কার্যবিধি আইনের ২য় তফসিল অনুসারে অথবা অন্য কোন আইন অনুসারে পুলিশ অফিসার যে সকল অপরাধে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারে তাকেই আমলযোগ্য অপরাধ বলে।
২.ফৌঃ কাঃ ৪(চ) ধারায় আমলযোগ্য অপরাধের সংজ্ঞা দেয়া হয়েছে।
৩.আমলযোগ্য অপরাধ ম্যাজিস্ট্রেটের অনুমতি ছাড়াই তদন্ত করা যায়। ফৌঃকাঃ ১৫৬, পিআরবি ২৫৮ বিধি
৪.আমলযোগ্য অপরাধের সংবাদের প্রেক্ষিতে থানায় মামলা রেকর্ড করা হয়। ফৌঃ কাঃ ১৫৪ ধারা,পিআরবি ২৪৩ বিধি
৫.আমলযোগ্য অপরাধীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যায়।
আমলের অযোগ্য অপরাধঃ
১.যে সকল অপরাধের কারনে পুলিশ অফিসার বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করতে পারেনা, সেই সকল অপরাধকে আমলের অযোগ্য অপরাধ বলা হয়।
২.ফৌঃ কাঃ ৪(১) ঢ ধারায় উল্লেখ করা আছে।
৩.আমলের অযোগ্যর অপরাধের ক্ষেত্রে ম্যাজিস্ট্রেট এর অনুমতি ছাড়া তদন্ত করা যায়না। ফৌঃ কাঃ ১৫৫, ১৯০ধারা, পিআরবি২৬৮
৪.আমলের অযোগ্য অপরাধের সংবাদ থানায় আসলে জিডিতে লিপিবদ্ধ করতে হয়। ফৌঃ কাঃ ১৫৪,১৫৫ ধারা, পিআরবি ৩৭৭ বিধি, পুলিশ আইন ৪৪ ধারা।
৫. আমলের অযোগ্য অপরাধীকে বিনা পরোয়ানায় গ্রেফতার করা যায় না।
Comments